বাংলাদেশের লাভজনক ১০ টি ব্যবসা

বাংলাদেশের লাভজনক ১০ টি ব্যবসাবাংলাদেশের লাভজনক ১০ টি ব্যবসা

এখানে বাংলাদেশের লাভজনক ১০ টি ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দেশের জনসংখ্যা যেমন দিন দিন বাড়ছে, তেমনি ব্যবসার হার ও বেড়েই চলেছে। অনেকেই অল্প পুঁজি নিয়েই ছোট ব্যবসা থেকেই লাভবান হয়ে ব্যবসার প্রসার করে থাকে বা এটি সম্ভব।

আজকের এই বিজ্ঞাপনে আমরা বাংলাদেশের লাভজনক সেরা ১০ টি ব্যবসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি— এই ১০ টি ব্যবসার বাজার সম্ভাবনা কেমন, কি পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে, কি পরিমাণ লাভের সুযোগ থাকছে। এছাড়াও ব্যবসার ঝুঁকি কেমন, লাইসেন্স করা সহ বাস্তব পরামর্শ উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিজ্ঞাপন টি নতুন উদ্যোক্তা বা চাকরিজীবী যারা পার্টটাইম হিসেবে ব্যবসা করবেন বা ভাবছেন, কিংবা যারা পেশা পরিবর্তন করে ব্যবসায় আসতে চান—তাদের জন্য উপযোগী এই বিজ্ঞাপন ।

কৃষি ভিত্তিক আধুনিক চাষাবাদ 

কেন এই ব্যবসা লাভজনক?

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ এবং এই কৃষির উপর নির্ভর করে বাংলার মানুষ। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান শক্তি এই কৃষি। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে কৃষির উপর নির্ভরশীলতার ধরনের ও অনেক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশর পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী মোট প্রায় ৪৫.৩৩% মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। অর্থাৎ, এই ৪৫.৩৩% মানুষ সরাসরি মাঠে ফসল উৎপাদন- গবাদি পশু পালন বা মৎস্য উৎপাদন সহ অন্যান্য কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়াও ৬০% থেকে ৭০% মানুষ কৃষি পণ্যের ব্যবসা করেন, সার ও কীটনাশক বিক্রয় বা পরিবহন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাংলাদেশের প্রায় ১১% থেকে ১২% মানুষ মোট জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান রাখে। এছাড়াও গ্রাম অঞ্চলের প্রায় ৮০% থেকে ৮৫% মানুষ তাদের আয়ের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

কোন কোন চাষ বেশি লাভজনক?
  • ১.অর্গানিক সবজি, যেমন- টমেটো, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি
  • ২.ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি
  • ৩.ছাদ কৃষি (Rooftop Gardening)
  • ৪.মাশরুম চাষ
  • ৫.ফুল চাষ, যেমন-গাঁদা, রজনীগন্ধা ইত্যাদি,

প্রাথমিক বিনিয়োগ

প্রথম অবস্থায় বা ছোট পরিসরে হলেও ৫০,০০০৳ থেকে ১,৫০,০০০৳ টাকা বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। এছাড়া মাঝারি পরিসরে হলে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

আনুমানিক কত শতাংশ লাভ হতে পারে

সঠিক ভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে বছরে ৩০% থেকে ৭০% পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রি করলে আরও অধিক লাভ করা সম্ভব হবে।

ঝুঁকি ও সমাধান

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যার মাধ্যমে ক্ষতি কমানো সম্ভব এবং কৃষি বীমার মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বাজার মূল্য লক্ষ রাখতে হবে এবং মূল্য ওঠানামা অনুযায়ী লাভজনক মনে হলে আগাম চুক্তি ভিত্তিক বিক্রি করে দিতে হবে।

অনলাইন ব্যবসা ও ই–কমার্স 

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটিরও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং কুরিয়ার সার্ভিস সহ অন্যান্য ই–কমার্স ব্যবসা দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে।

কোন ধরনের ই–কমার্স ব্যবসা লাভজনক?

ফেসবুক পেজ ও শপ

নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকতে হবে, যেমন,WordPress + WooCommerce + নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি (Niche) প্রোডাক্ট,ফ্যাশন,কসমেটিকস,ইলেকট্রনিক্স,এক্সেসরিজ ইত্যাদি।

প্রাথমিক বিনিয়োগ

ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা করলে ২০,০০০৳ থেকে ৫০,০০০৳ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা ভালো। এছাড়া ওয়েবসাইট সহ ব্যবসা করলে ৫০,০০০৳ থেকে ১,০০,০০০৳ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

কত % লাভ হতে পারে

এই ব্যবসায় সাধারণত ২০% থেকে ৫০% পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে। নিজস্ব ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এর লাভ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। তবে সময় ও পরিশ্রম কে কাজে লাগাতে হবে।

কি কি প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকা লাগবে

  • ১.ডিজিটাল মার্কেটিং
  • ২.কাস্টমার সার্ভিস
  • ৩.কন্টেন্ট এবং বিজ্ঞাপন ম্যানেজমেন্ট
  • ৩. পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্মিং

মাংস,দুধ ও ডিমের চাহিদা ১২ মাসই থাকে। তবে দিন দিন এর চাহিদা আরও বাড়ছে।

পোল্ট্রি ব্যবসার ধরন
  • ১.ব্রয়লার মুরগি
  • ২.লেয়ার মুরগি
  • ৩.দেশি মুরগি
  • ৪.ডেইরি ফার্মিং
  • ৫.গাভী পালন
  • ৬.দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহ

প্রাথমিক বিনিয়োগ

ছোট পোল্ট্রি ফার্মিং ব্যবসায় ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। মাঝারি ডেইরি ফার্মিং ব্যবসায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

অন্য পোস্ট দেখুন- নতুনরা Export Import Business কিভাবে করবেন

পোল্ট্রি ফার্মিং ব্যবসায় কত % লাভ হয়ে পারে

সঠিক ভাবে ব্যবস্থাপনা করিতে পারলে মাসিক নিয়মিত ভালো একটা আয় পাওয়া সম্ভব। তবে সাধারণ ভাবে পোল্ট্রি ব্যবসায় ২৫% থেকে ৪০% পর্যন্ত লাভ দেখা যায়।

যে সব মোকাবিলা করতে হবে 

সকল প্রকার রোগবালাই হলে নিয়মিত ভ্যাকসিন দিতে হবে। খাদ্যের দাম বেড়ে গেলে নিজস্ব ভাবে খাদ্য ব্যবস্থা করতে হবে।

রেস্টুরেন্ট ও ফুড ব্যবসা

বাজার চাহিদা কেমন

বর্তমান সময়ে শহরাঞ্চলে ফাস্টফুড, ক্যাফে এবং হোমমেড খাবারের চাহিদা ব্যাপক রয়েছে। এই ব্যবসার জন্য ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবসাকে আরও সহজ করবে।

জনপ্রিয় ফুড ব্যবসার আইডিয়া

  • ১.ফাস্টফুড শপ
  • ২.চা–কফি ক্যাফে
  • ৩.হোমমেড কেটারিং
  • ৪.ফুড ট্রাক

বিনিয়োগ

ছোট ফুড শপ ব্যবসার জন্য ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। একটি ক্যাফে ব্যবসার জন্য ৫ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

ফুড শপে কেমন লাভ হতে পারে

আপনার সঠিক লোকেশন এবং পরিবেশ, মান বজায় রেখে ব্যবসা করতে পারলে মাসিক ভালো পরিমাণ লাভবান হওয়া সম্ভব।

মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সার্ভিসিং ব্যবসা

বর্তমানে বাংলাদেশের সকলের প্রায় সকলের হাতে এখন স্মার্টফোন রয়েছে। এবং এই স্মার্টফোনের নিয়মিত সার্ভিসিং এবং রিপেয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

সার্ভিসিংয়ের ধরন

  • ১.মোবাইল রিপেয়ার
  • ২.এক্সেসরিজ বিক্রি
  • ৩.সফটওয়্যার সার্ভিস

বিনিয়োগ

প্রথম অবস্থায় ৫০,০০০৳ থেকে ২,০০,০০০৳ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

সার্ভিসিং ব্যবসায় কেমন লাভ হতে পারে

সার্ভিসিং কাজের দক্ষতা থাকলে খুব দ্রুত বিনিয়োগে টাকা উঠে আসবে।

ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সার্ভিস ব্যবসা

বাংলাদেশের অনলাইন ভিত্তিক সার্ভিস দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবং এই কাজের প্রতিযোগিতার হার ও বেড়েছে।

অনলাইন ভিত্তিক এই কাজের মাধ্যমে ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের করতে পারছেন। এই আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে তরুণ সমাজ এই পেশায় বেছে নিচ্ছে।

জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং সেবা কি কি

  • ১.ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট
  • ২.গ্রাফিক ডিজাইন
  • ৩.ডিজিটাল মার্কেটিং
  • ৪.কনটেন্ট রাইটিং
  • ৫.ভিডিও এডিটিং

বিনিয়োগ

প্রথম অবস্থায় ল্যাপটপ, ইন্টারনেট, কোর্স সহ ৩০,০০০৳ থেকে ১,০০,০০০৳ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। যদি আপনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকে তাহলে সেই খরচ আপনার বেচে গেলো।

কেমন আয় হতে পারে 

কাজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে মাসিক আয় প্রথম অবস্থায় ২০,০০০৳ টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে। তবে আপনি অনলাইনে যেমন সময় দিয়ে কাজ করবেন ঠিক তেমনই সাফল্য পাবেন।

কি কি সুবিধা পাবেন

  • ১.কাজের চাপ নেই
  • ২.অফিস ভাড়া নেই
  • ৩.বৈদেশিক মুদ্রা আয়
  • ৪.ব্যাক্তি স্বাধীনতা

রিয়েল এস্টেট ও জমি–ফ্ল্যাট ব্যবসা

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট সহ অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতে জমি ও ফ্ল্যাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়াওগ্রাম অঞ্চলে আবাসিক প্রকল্পের চাহিদা রয়েছে।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ধরন
  • ১.জমিজমা ক্রয় ও বিক্রয়
  • ২.ফ্ল্যাট ডেভেলপমেন্ট
  • ৩.প্রপার্টি ব্রোকারেজ

বিনিয়োগ

সাধারণত ছোট পরিসরে ব্রোকারেজের জন্য ৫০,০০০৳ টাকা পর্যন্ত এবং বড় ডেভেলপমেন্টের জন্য ২০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

অন্য পোস্ট – শূন্য উপন্যাস বই – হুমায়ূন আহমেদ

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় লাভ

বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদের ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ এবং লাভজনক ব্যবসা হলো রিয়েল এস্টেট ব্যবসা।

গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ব্যবসা

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানি-কারক দেশ হলো বাংলাদেশ। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে বিশাল কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় করা সম্ভব।

ব্যবসার ধরন

  • ১.ছোট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি
  • ২.পোশাক বায়িং হাউস
  • ৩.অনলাইন পোশাক ব্র্যান্ড

বিনিয়োগ

এই ব্যবসায় ছোট ইউনিটের জন্য ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং মাঝারি ইউনিটের জন্য ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ব্যবসায় লাভ

লাভাংশ রপ্তানি দক্ষতার উপর নির্ভর করে। তবে এই ব্যবসায় রপ্তানি করতে পারলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হবে।

ট্রাভেল ও ট্যুরিজম ব্যবসা

বাংলাদেশে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার কারনে পর্যটন এলাকা সুন্দরবন, কক্সবাজার, সিলেট এই সব জায়গায় ট্যুরিজম ব্যবসায় ব্যাপক লাভবান হওয়া সম্ভব।

ব্যবসার ধরন

  • ১.ট্রাভেল এজেন্সি
  • ২.ট্যুর প্যাকেজ
  • ৩.হোটেল বুকিং সার্ভিস

বিনিয়োগ

প্রথম অবস্থায় ১ লাখ থেকে ৩ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা ভালো।

কেমন আয় হতে পারে

এই ব্যবসা সিজনাল হলেও সঠিক ভাবে মার্কেটিং করতে পারলে ভালো পরিমাণ লাভ কর সম্ভব হবে।

শিক্ষা ও কোচিং সেন্টার ব্যবসা

বাংলাদেশে শিক্ষা ও কোচিং সেন্টার ব্যবসার চাহিদা সব সময় থাকে।

ব্যবসার ধরন

  • ১.স্কুল ও কলেজ কোচিং
  • ২.আইটি ট্রেনিং সেন্টার
  • ৩.অনলাইন কোর্স

বিনিয়োগ

ছোট কোচিং হলেও সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা ভালো।

কি রকম লাভ হতে পারে

এই ব্যবসায় নিয়মিত এবং স্থায়ী আয় করা সম্ভব সম্ভব। তবে আপনার ব্যবায়ার প্রসারিত ও ডেভেলপমেন্ট এর উপর নির্ভর করবে।

উপসংহার ও মতামত 

বর্তমান বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং পরিশ্রম থাকলে আপনার অল্প পুঁজি দিয়েও বড় সফলতা অর্জন করতে পারবেন। এই বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশের লাভজনক ১০ টি ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে যা বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক। আপনার পুঁজি, দক্ষতা এবং আগ্রহ অনুযায়ী যে কোনো একটি ব্যবসা বেছে নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে আপনি সরাসরি কোনো ব্যবসায় নামবেন না। আপনি একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীর সাথে ব্যবসার কাজে থেকে অভিজ্ঞতা নিয়েই ব্যবসা শুরু করবেন। এটিই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত হবে।

1 thought on “বাংলাদেশের লাভজনক ১০ টি ব্যবসা”

Leave a Comment