পারিবারিক আপীল ও শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সার্টিফাইড কপি এখন কোথায় পাবেন? জেনে নিন।
নওগাঁ জজ কোর্টের একজন আইনজীবী সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, নতুন কোনো আদালত গঠিত হলে সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও মক্কেলদের মনে কাগজপত্রের নকল বা সার্টিফাইড কপি তোলা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ থেকে পারিবারিক আপীল আদালত, ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার (নং-০১/২০২৬ জে) জারি করেছে। আজকের প্রতিবেদনে এই ট্রাইব্যুনালের কাগজপত্রের জাবেদা নকল তোলার নিয়ম ও পরামর্শ দিয়েছি।
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এই নতুন আদালতগুলো গঠিত হলেও সেখানে এখনো প্রয়োজনীয় নকলনবিশ, তুলনাকারী বা সার্টিফাইং অফিসার নিয়োগ সম্পন্ন হয় নি। যার কারণে এসব আদালতের মামলার রায়ের কপি বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজের জাবেদা নকল পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে আপনি চাইলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মামলার জাবেদা নকল নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নতুন সমাধান ও নির্দেশনা
পারিবারিক আপীল আদালত, ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের জাবেদা/সার্টিফাইড কপি তোলার জটিলতা নিরসনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ এখন একটি বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়েছে। নির্দেশনা মতে, যতক্ষণ না এই আদালত গুলোতে নিজস্ব নকলনবিশ, তুলনাকারী বা সার্টিফাইং অফিসার নিয়োগ হচ্ছে, ততক্ষণ নিচের নিয়মে সার্টিফাইড কপি/নকল সরবরাহ করা হবে –
★ পারিবারিক ও ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনাল: এই আদালতগুলোর মামলার সকল সার্টিফাইড কপি/নকল সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা জজ আদালতের বিদ্যমান নকলখানা থেকে সরবরাহ করা হবে।
★ শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল:
★★মহানগর এলাকার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নকলখানা থেকে সার্টিফাইড কপি/নকল সরবরাহ করা হবে।
★★ মহানগর এলাকার বাইরে (যেমন আমাদের নওগাঁর ক্ষেত্রে) সংশ্লিষ্ট জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নকলখানা থেকে এই নকল সরবরাহ করা হবে। {সার্কুলার (নং-০১/২০২৬ জে) জারি মতে}
একজন আইনজীবী সহকারী হিসেবে আমার পরামর্শ ও মতামত
নওগাঁ জজ কোর্টে কাজ করার সুবাদে আমি এই নতুন ব্যবস্থার আলোকে আপনাদের জন্য কিছু সহজ পরামর্শ দিচ্ছি –
অন্য পোস্ট – নামজারি না করে কি ওয়ারিশি জমি বন্টননামা করা যায় কি? আইনি সমাধান জানুন
★ আবেদন কোথায় করবেন –
আপনার মামলা টি যদি নতুন গঠিত ল্যান্ড সার্ভে বা পারিবারিক আপীল আদালতের হয়. তাহলে সরাসরি জেলা জজ আদালতের নকলখানায় যোগাযোগ করুন। আর শিশু ধর্ষণ ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নকলখানায় খোঁজ নিন।
★ কাগজপত্রের সঠিকতা –
যেহেতু নতুন আদালতগুলোতে এখনো পূর্ণাঙ্গ অফিস সহকারী নিয়োগ হয় নি, তাই অনেক সময় বিচারক নিজেই ‘সার্টিফাইং অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবেদনের সময় মামলার নম্বর ও আদালতের নাম পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করে, নিশ্চিত করুন যাতে ভুল না হয়।
★ সার্টিফাইড কপি পেতে ধৈর্য ধরুন –
লোকবল সংকটের কারণে ফাইল এক আদালত থেকে অন্য আদালতের নকলখানায় পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এজন্য নকলের আবেদন জমা দিয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখার চেষ্টা করুন।
সুপ্রিম কোর্টের এই সার্কুলার টি আসার কারণে এখন আর “লোকবল নেই” বলে নকল দিতে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি বড় অবদান।
★★★বিশেষ দ্রষ্টব্য – বিচারপ্রার্থী ভাই-বোনেরা, দালাল হইতে সাবধান থাকবেন, অর্থাৎ কোর্ট চত্বরে ঘুরাফেরা করা আপনার অপরিচিত কারো কাছে কোনো প্রকার লেনদেন করবেন না। আপনার নিযুক্ত আইনজীবী/আইনজীবী সহকারীর (মহুরি) মাধ্যমে সকল কাজ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ করে নিন। যদি কোর্ট চত্বরে আপনার পরিচিত কেউ না থাকে বা আপনি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনি সরাসরি জেলা আইনজীবী সমিতি অথবা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতিতে যোগাযোগ করিবেন। তাহলে আপনাকে প্রতারণার স্বীকার হতে হবে না। আর যদি নওগাঁ জজ কোর্টে আপনার কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয় তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন। এবং এই প্রতিবেদন টি শেয়ার করে সকল কে জানার সুযোগ করে দিন।

Mithu Babu 















