০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে? নিয়ম ও কাগজপত্র

  • Mithu Babu
  • Update Time : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫২ Time View

কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে? নিয়ম ও কাগজপত্র

কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে? জানুন নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (নওগাঁ নোটারি পাবলিক)

আমাদের সমাজে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ শব্দটি খুবই পরিচিত। বিশেষ করে যখন কোনো যুগল পরিবারের অমতে বিয়ে করেন, তখন তারা আইনি সুরক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। আমি নওগাঁ জজ কোর্টের একজন আইনজীবী সহকারী হিসেবে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আজ আপনাদের জানাব কোর্ট ম্যারেজ বা বিবাহের হলফনামা (Affidavit) করার সঠিক নিয়ম এবং এর আসল খরচ সম্পর্কে।

কোর্ট ম্যারেজ আসলে কী?

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—কোর্ট ম্যারেজ করলেই বিয়ে হয়ে যায়। আসলে আইনত ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বলে কোনো বিয়ের অস্তিত্ব নেই। ধর্মীয় মতে বিয়ে করার পর (যেমন মুসলিমদের ক্ষেত্রে কাজি অফিসে নিকাহনামা), সেই বিয়ের ঘোষণা দিয়ে নোটারি পাবলিকের সামনে যে হলফনামা করা হয়, তাকেই সাধারণ মানুষ কোর্ট ম্যারেজ বলে। এটি মূলত বিয়ের একটি শক্তিশালী আইনি দস্তাবেজ বা প্রমাণ।

বিয়ের জন্য ন্যূনতম বয়স কত?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী:
* ছেলের বয়স: অবশ্যই পূর্ণ ২১ বছর হতে হবে।
* মেয়ের বয়স: অবশ্যই পূর্ণ ১৮ বছর হতে হবে।
বিয়ের সময় উভয় পক্ষকে মানসিকভাবে সুস্থ এবং স্বেচ্ছায় বিয়ের সিদ্ধান্তে একমত হতে হবে। বয়স কম বা গোপন করে বিয়ে করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

কোর্ট ম্যারেজ করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

সঠিক কাগজপত্র ছাড়া কোর্ট ম্যারেজ করা সম্ভব নয়। আপনার সাথে নিচের নথিগুলো থাকতে হবে:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম সনদ: বয়স প্রমাণের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
২. পাসপোর্ট সাইজ ছবি: বর ও কনে উভয়ের অন্তত ২-৩ কপি ছবি।
৩. সাক্ষী: অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী এবং তাদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
৪. বিশেষ ক্ষেত্রে: আগের বিয়ে ভেঙে গিয়ে থাকলে তালাকনামা (ডিভোর্স পেপার) অথবা স্বামী/স্ত্রী মৃত হলে মৃত্যু সনদ প্রয়োজন হবে।

কোর্ট ম্যারেজ বা হলফনামার খরচ কত?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে। বিষয়টি একটু পরিষ্কার করা যাক:
* সরকারি ফি: হলফনামার জন্য স্ট্যাম্প ও নোটারি ফি সরকার নির্ধারিত হলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আইনজীবীর ফি এবং ড্রাফটিং খরচ যুক্ত হয়।
* মোট খরচ: সাধারণত একটি হলফনামা তৈরি ও সম্পন্ন করতে ১২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে (স্থান ও আইনজীবী ভেদে এটি কম-বেশি হয়)।
* সতর্কতা: যদি কাজি অফিসের মাধ্যমে কাবিননামা বা নিকাহনামা রেজিস্ট্রি করেন, তবে কাবিননামায় উল্লিখিত ‘দেনমোহর’-এর পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সরকারি ফি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

অন্য পোস্ট – ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরি | ক্যারিয়ার হিসেবে কোনটি আপনার জন্য সেরা?

বিবাহের হলফনামা বা কোর্ট ম্যারেজের নমুনা (নওগাঁ নোটারি পাবলিক)

নিচে একটি আদর্শ ড্রাফট দেওয়া হলো যা সাধারণত আমরা নওগাঁ জজ কোর্টে ব্যবহার করে থাকি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও পরামর্শ

আমি নওগাঁ জজ কোর্টে কাজ করার সুবাদে অনেক জটিলতা দেখেছি। তাই আপনাদের প্রতি আমার কিছু ব্যক্তিগত পরামর্শ:
১. ভুয়া দালালের খপ্পরে পড়বেন না: অনেক সময় দালালেরা ভুয়া বয়স বা ভুয়া সাক্ষী দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার লোভ দেখায়। এটি করবেন না, কারণ ভুয়া কাগজে বিয়ে করলে পরবর্তীতে জেল-জরিমানা হতে পারে।
২. কাজি অফিসের রেজিস্ট্রেশন: শুধু কোর্ট ম্যারেজ করে বসে থাকবেন না। অবশ্যই কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি (কাবিননামা) করে নেবেন। কাবিননামা ছাড়া শুধু কোর্ট ম্যারেজের হলফনামা দিয়ে কাবিননামার সুফল পাওয়া যায় না।
৩. অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা: যেকোনো আইনি জটিলতা এড়াতে সরাসরি একজন রেজিস্টার্ড আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

আমার মতামত

আইন মেনে বিয়ে করা আপনার নাগরিক অধিকার। সঠিক নিয়ম জেনে এবং সঠিক কাগজপত্র দিয়ে বিয়ে করলে ভবিষ্যতে কোনো আইনি ঝামেলায় পড়ার ভয় থাকে না। এই তথ্যগুলো যদি আপনার উপকারে আসে, তবে পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও সচেতন করুন।

Spread the love

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

mithu Babu

কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে? নিয়ম ও কাগজপত্র

Update Time : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে? জানুন নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (নওগাঁ নোটারি পাবলিক)

আমাদের সমাজে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ শব্দটি খুবই পরিচিত। বিশেষ করে যখন কোনো যুগল পরিবারের অমতে বিয়ে করেন, তখন তারা আইনি সুরক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। আমি নওগাঁ জজ কোর্টের একজন আইনজীবী সহকারী হিসেবে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আজ আপনাদের জানাব কোর্ট ম্যারেজ বা বিবাহের হলফনামা (Affidavit) করার সঠিক নিয়ম এবং এর আসল খরচ সম্পর্কে।

কোর্ট ম্যারেজ আসলে কী?

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—কোর্ট ম্যারেজ করলেই বিয়ে হয়ে যায়। আসলে আইনত ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বলে কোনো বিয়ের অস্তিত্ব নেই। ধর্মীয় মতে বিয়ে করার পর (যেমন মুসলিমদের ক্ষেত্রে কাজি অফিসে নিকাহনামা), সেই বিয়ের ঘোষণা দিয়ে নোটারি পাবলিকের সামনে যে হলফনামা করা হয়, তাকেই সাধারণ মানুষ কোর্ট ম্যারেজ বলে। এটি মূলত বিয়ের একটি শক্তিশালী আইনি দস্তাবেজ বা প্রমাণ।

বিয়ের জন্য ন্যূনতম বয়স কত?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী:
* ছেলের বয়স: অবশ্যই পূর্ণ ২১ বছর হতে হবে।
* মেয়ের বয়স: অবশ্যই পূর্ণ ১৮ বছর হতে হবে।
বিয়ের সময় উভয় পক্ষকে মানসিকভাবে সুস্থ এবং স্বেচ্ছায় বিয়ের সিদ্ধান্তে একমত হতে হবে। বয়স কম বা গোপন করে বিয়ে করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

কোর্ট ম্যারেজ করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

সঠিক কাগজপত্র ছাড়া কোর্ট ম্যারেজ করা সম্ভব নয়। আপনার সাথে নিচের নথিগুলো থাকতে হবে:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম সনদ: বয়স প্রমাণের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
২. পাসপোর্ট সাইজ ছবি: বর ও কনে উভয়ের অন্তত ২-৩ কপি ছবি।
৩. সাক্ষী: অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী এবং তাদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
৪. বিশেষ ক্ষেত্রে: আগের বিয়ে ভেঙে গিয়ে থাকলে তালাকনামা (ডিভোর্স পেপার) অথবা স্বামী/স্ত্রী মৃত হলে মৃত্যু সনদ প্রয়োজন হবে।

কোর্ট ম্যারেজ বা হলফনামার খরচ কত?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে। বিষয়টি একটু পরিষ্কার করা যাক:
* সরকারি ফি: হলফনামার জন্য স্ট্যাম্প ও নোটারি ফি সরকার নির্ধারিত হলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আইনজীবীর ফি এবং ড্রাফটিং খরচ যুক্ত হয়।
* মোট খরচ: সাধারণত একটি হলফনামা তৈরি ও সম্পন্ন করতে ১২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে (স্থান ও আইনজীবী ভেদে এটি কম-বেশি হয়)।
* সতর্কতা: যদি কাজি অফিসের মাধ্যমে কাবিননামা বা নিকাহনামা রেজিস্ট্রি করেন, তবে কাবিননামায় উল্লিখিত ‘দেনমোহর’-এর পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সরকারি ফি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

অন্য পোস্ট – ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরি | ক্যারিয়ার হিসেবে কোনটি আপনার জন্য সেরা?

বিবাহের হলফনামা বা কোর্ট ম্যারেজের নমুনা (নওগাঁ নোটারি পাবলিক)

নিচে একটি আদর্শ ড্রাফট দেওয়া হলো যা সাধারণত আমরা নওগাঁ জজ কোর্টে ব্যবহার করে থাকি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও পরামর্শ

আমি নওগাঁ জজ কোর্টে কাজ করার সুবাদে অনেক জটিলতা দেখেছি। তাই আপনাদের প্রতি আমার কিছু ব্যক্তিগত পরামর্শ:
১. ভুয়া দালালের খপ্পরে পড়বেন না: অনেক সময় দালালেরা ভুয়া বয়স বা ভুয়া সাক্ষী দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার লোভ দেখায়। এটি করবেন না, কারণ ভুয়া কাগজে বিয়ে করলে পরবর্তীতে জেল-জরিমানা হতে পারে।
২. কাজি অফিসের রেজিস্ট্রেশন: শুধু কোর্ট ম্যারেজ করে বসে থাকবেন না। অবশ্যই কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি (কাবিননামা) করে নেবেন। কাবিননামা ছাড়া শুধু কোর্ট ম্যারেজের হলফনামা দিয়ে কাবিননামার সুফল পাওয়া যায় না।
৩. অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা: যেকোনো আইনি জটিলতা এড়াতে সরাসরি একজন রেজিস্টার্ড আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

আমার মতামত

আইন মেনে বিয়ে করা আপনার নাগরিক অধিকার। সঠিক নিয়ম জেনে এবং সঠিক কাগজপত্র দিয়ে বিয়ে করলে ভবিষ্যতে কোনো আইনি ঝামেলায় পড়ার ভয় থাকে না। এই তথ্যগুলো যদি আপনার উপকারে আসে, তবে পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও সচেতন করুন।

Spread the love