বিসিএস (BCS) প্রস্তুতি গাইড | শূন্য থেকে ক্যাডার হওয়ার সম্পূর্ণ স্টাডি প্ল্যান ও রুটিন
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। প্রতি বছর লাখো পরীক্ষার্থীর ভিড়ে নিজেকে ক্যাডার হিসেবে যোগ্য করে তুলতে কেবল কঠোর পরিশ্রম নয়, বরং প্রয়োজন একটি সুনিপুণ স্টাডি প্ল্যান এবং কৌশলী প্রস্তুতি। আজকের এই নিবন্ধে আমরা বিসিএস যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করণীয় এবং একটি কার্যকর রুটিন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
বিসিএস পরীক্ষার ধাপসমূহ একনজরে
বিসিএস মূলত তিনটি পর্যায়ের একটি দীর্ঘ যাত্রা:
১. প্রিলিমিনারি (২০০ নম্বর): এটি বাছাই পরীক্ষা। এখানে মূলত প্রার্থীর সাধারণ জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়।
২. লিখিত পরীক্ষা (৯০০ নম্বর): এটি ক্যাডার পাওয়ার মূল মানদণ্ড। প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণরা এতে অংশ নেন।
৩. মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা (২০০ নম্বর): প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা এবং সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হয়।
বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস ও মান বণ্টন
প্রিলিমিনারিতে ২০০টি MCQ থাকে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ নম্বর কাটা যায়।
বিষয় | নম্বর | বিষয় | নম্বর |
|---|---|---|---|
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য | ৩৫ | সাধারণ বিজ্ঞান | ১৫ |
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য | ৩৫ | কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি | ১৫ |
বাংলাদেশ বিষয়াবলী | ৩০ | গাণিতিক যুক্তি | ১৫ |
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী | ২০ | মানসিক সক্ষমতা | ১০ |
ভূগোল ও পরিবেশ | ১০ | নৈতিকতা ও সুশাসন | ১৫ |
কার্যকর স্টাডি প্ল্যান (১২ মাসের রোডম্যাপ)
বিসিএস প্রস্তুতিকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাথমিক ভিত্তি (১-৪ মাস)
এই সময়ে মূল ফোকাস থাকবে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের ওপর।
★ প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫টি নতুন ইংরেজি শব্দ শিখুন।
★৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও গণিত বইগুলো শেষ করুন।
★নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ুন।
২. পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি (৫-৮ মাস)
এই ধাপে সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) এবং বিজ্ঞানের ওপর জোর দিন।
★ প্রিলিমিনারির পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার টপিকগুলো মিলিয়ে পড়ুন।
★ বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো চিহ্নিত করুন।
৩. রিভিশন ও মডেল টেস্ট (৯-১২ মাস)
শেষ চার মাস শুধু রিভিশন এবং পরীক্ষা দেওয়ার জন্য।
★সপ্তাহে অন্তত দুটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন।
★ নেগেটিভ মার্কিং এড়াতে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অনুশীলন করুন।
অন্য পোস্ট – সেরা ৪টি বাস্তব ও প্রমাণিত অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া | ঘরে বসে আয়ের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
বিসিএস প্রস্তুতির জন্য একটি আদর্শ দৈনিক রুটিন
একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে:
★সকাল (৬:৩০ – ৮:৩০): বাংলা বা ইংরেজি সাহিত্য (স্মৃতি সতেজ থাকে)।
★ সকাল (৯:৩০ – ১১:০০): বাংলাদেশ বা আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী।
★দুপুর (১১:৩০ – ১:০০): গাণিতিক যুক্তি বা মানসিক সক্ষমতা (মাথা যখন একটু ক্লান্ত থাকে, তখন গণিত চর্চা ভালো কাজ দেয়)।
★বিকেল (৩:৩০ – ৪:৩০): সাম্প্রতিক বিষয়াবলী ও পত্রিকা পড়া।
★ রাত (৭:০০ – ৯:০০): সাধারণ বিজ্ঞান বা তথ্যপ্রযুক্তি।
★ রাত (১০:০০ – ১০:৩০): সারাদিন যা পড়লেন তার একটি সংক্ষিপ্ত রিভিশন।
প্রস্তুতির কিছু জরুরি টিপস
★ সিলেবাস প্রিন্ট করে রাখুন: পড়ার টেবিলে বিসিএস সিলেবাস সব সময় চোখের সামনে রাখুন।
★ বইয়ের পাহাড় জমাবেন না: প্রতিটি বিষয়ের জন্য গাদা গাদা বই না কিনে এক-দুইটি মানসম্মত বই বারবার পড়ুন।
★ প্রিলি ও লিখিত একসাথে পড়ুন: অনেক টপিক (যেমন: সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ) প্রিলি ও লিখিত উভয় জায়গাই কমন। তাই শুরু থেকেই বিস্তারিত পড়ার চেষ্টা করুন।
★নেতিবাচক মার্কিং এড়ান: প্রিলিমিনারিতে আন্দাজে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
★বিসিএস প্রস্তুতির সকল প্রকার বই কিনতে এখানে ক্লিক করুন।
শেষ কথা ও পরামর্শ
বিসিএস কেবল মেধার নয়, বরং ধৈর্যের পরীক্ষা। এই দীর্ঘ যাত্রায় অনেক সময় একঘেয়েমি আসতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন—ধারাবাহিকতাই সাফল্যের চাবিকাঠি। আপনার লক্ষ্য যদি স্থির থাকে এবং প্রতিদিন ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে যান, তবে চূড়ান্ত সফলতা আপনার হাতের মুঠোয় আসবেই।

Mithu Babu 


















