ফ্রিল্যান্সিং vs চাকরি – কোনটা ভালো?

ফ্রিল্যান্সিং vs চাকরি – কোনটা ভালো?

বর্তমান সময়ে অনেকেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে সবচেয়ে বেশি ভাবনায় থাকেন যে, ফ্রিল্যান্সিং ভালো হবে না কি চাকরি? এই বিষয়টি বিশেষ করে বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল বেশ কিছু দেশগুলোতে তরুণ প্রজন্ম এই রকম দ্বিধার মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকেন। কেউ আশা করেন স্থায়ী ভাবে আয় করার নিশ্চয়তা, আবার কেউ নিজের স্বাধীনতার পাশাপাশি কাজ করে আয় করার মতো সুবিধা।

আজকের বিজ্ঞাপনে ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরি- এই দুই টি ক্যারিয়ার নিয়ে গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করবো। আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী বা নতুন গ্র্যাজুয়েট, চাকরিজীবী, অথবা ভবিষ্যতের জন্য ক্যারিয়ার পরিবর্তনেত কথা ভাবেন তাহলে এই বিজ্ঞাপন টি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রিল্যান্সিং কী?

ফ্রিল্যান্সিং অনলাইন ভিত্তিক একটি কাজের পদ্ধতি, যেখানে আপনি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মচারী না হলেও নিজের দক্ষতাকে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কাছে বিক্রি করেন বা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাজ গুলো ঘরে বসেই করে দিতে পারেন। এই কাজের মাধ্যমে আপনি স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছেন এবং এর বিনিময় আপনি সাধারণত প্রজেক্ট ভিত্তিক বা ঘণ্টা ভিত্তিক পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু কাজের উদাহরণ

ক. গ্রাফিক ডিজাইন
খ. ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট
গ. কনটেন্ট রাইটিং
ঘ. ডিজিটাল মার্কেটিং
ঙ. ভিডিও এডিটিং
চ. এসইও (SEO)
ছ. ডেটা এন্ট্রি
জ. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস

  • Fiverr
  • Upwork
  • Freelancer
  • PeoplePerHour
  • Toptal

চাকরি কী?

চাকরি হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি বা সংস্থার অধীনে নির্দিষ্ট সময় এবং নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা কে বোঝানো হয়। এই কাজের বিনিময়ে মাসিক নির্দিষ্ট বেতন দিয়ে থাকে।

অন্য বিজ্ঞাপন – ডিসি অফিস ক্যান্টিন- নওগাঁ

চাকরির সাধারণ ধরন

ক. সরকারি চাকরি
খ. বেসরকারি চাকরি
গ. কর্পোরেট জব
ঘ. এনজিও চাকরি
ঙ. ব্যাংক জব

ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরির মৌলিক পার্থক্য

ফ্রিল্যান্সিং কাজের ধরন স্বাধীন এবং নির্দিষ্ট কাজের উপর আয় করতে পারবেন। এবং নির্দিষ্ট
সময় নিজের ইচ্ছামতো যে কোনো জায়গায় থেকে কাজ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা

ক. কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা

ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা। আপনি কখন কোথায় বসে কাজ করবেন বা কখন কিভাবে কাজ করবেন, এই সব কিছু নিয়ে কোনো বাঁধা নেই।

খ. আনলিমিটেড আয়ের সুবিধা

যে কোনো চাকরি তে নির্দিষ্ট বেতন থাকলেও ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়ের নির্দিষ্ট কোনো সীমা রেখা নেই। আপনার দক্ষতা বাড়লে এবং বেশি ক্লায়েন্ট নিয়ে কাজ করতে পারলে আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে ।

গ. ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা

ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে আপনি ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন। এই ঘরে বসে কাজ করতে যাতায়াত খরচ ও সময় লাগে না, বরং নিজ ঘরে বসেই আয় করতে পারছেন।

ঘ. একসাথে একাধিক কাজ করার সুযোগ

এক সাথে একাধিক ক্লায়েন্ট এর কাজ বা প্রজেক্টের কাজ করে আয় বাড়ানো সম্ভব হয়।

ঙ. গ্লোবাল মার্কেট এক্সেস

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিদেশি ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করার সুযোগ থাকে। যার ফলে বৈদেশিক কারেন্সিতে আয় করা সম্ভব হবে। এই বৈদেশিক কারেন্সি বাংলাদেশি কারেন্সিতে রূপান্তর করলে তা বহুগুণে বাড়িয়ে যায়।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের অসুবিধা

ক. আয়ের অনিশ্চয়তা

প্রতি মাসে একই ভাবে আয় সমান নাও হতে পারে। কখনো বেশি ইনকাম হবে বা, কখনো কম ইনকাম হবে। এজন্য ধৈর্য হারানো যাবে না।

খ. কাজ না পেলে ইনকাম নেই

কাজের জন্য ক্লায়েন্ট না পেলে কোনো আয় করা সম্ভব হয় না।

গ. নিজ দায়িত্বে সব কিছু

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করলে ট্যাক্স, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং সময় ব্যবস্থাপনা এই সব কিছু নিজে কে সামলাতে হয়।

ঘ. সামাজিক নিরাপত্তার অভাব

ফ্রিল্যান্সিং ব্যবসা করলে পেনশন, বোনাস, ইনসুরেন্স, ঈদ/উৎসব বোনাস এইসব থাকে না।

চাকরির সুবিধা

ক. নির্দিষ্ট ও স্থায়ী আয়

চাকরি করলে মাস শেষে নির্দিষ্ট একটা বেতন পাওয়া যায়। ঈদ/উৎসব বোনাস পাওয়া যায়। যা মাস শেষে মানসিক শান্তি দেয়।

খ. সামাজিক নিরাপত্তা

চাকরি করলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ইনসুরেন্স,ঈদ/উৎসব/সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটি এই সব সুবিধা পাওয়া যায়।

গ. ক্যারিয়ার স্ট্রাকচার

চাকরি করলে কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পদোন্নতি, ট্রেনিং এই সব ক্যারিয়ারের সুবিধা থাকে।

ঘ. টিমওয়ার্ক এবং নেটওয়ার্কিং

চাকরিতে সহকর্মীদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে সামাজিক এবং পেশাগত পরিচয় ও নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।

চাকরির অসুবিধা

ক. সময়ের স্বাধীনতা নেই

অফিসের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হয়। সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়।

খ. আয়ের সীমাবদ্ধতা

কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা অনুযায়ী বেতন বাড়ে ধীরে ধীরে এবং অনেক সময় পরিশ্রমের তুলনায় বেতন কম হয়ে থাকে।

গ. মালিকের উপর নির্ভরশীলতা

যে কোনো কাজের জন্য সব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে থাকে না। অর্থাৎ যার অধীনে চাকরি করবেন তার তার উপর নির্ভরশীল হতে হয়।

অন্য বিজ্ঞাপন – বাংলাদেশে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করার শাস্তি

ঘ. কাজে একঘেয়েমি

একই স্থানে একই ধরনের কাজ দীর্ঘ দিন করলে কাজের প্রতি বিরক্তি আসতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরি: কোন টা কাদের জন্য ভালো?

ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য ভালো যদি—

ক. আপনি কাজ ও সময়ের স্বাধীনচেতা চান।
খ. কাজের ঝুঁকি নিতে পারেন।
গ. নিজে নিজে শিখতে আগ্রহী হন।
ঘ. অনলাইন স্কিল থাকে।

আপনার জন্য চাকরি ভালো যদি—

ক. আপনি স্থায়ী আয় চান
খ. আপনি ঝুঁকি নিতে না চান
গ. আপনি সামাজিক নিরাপত্তা প্রয়োজন
ঘ. আপনি নির্দিষ্ট নিয়মে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরি

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং একটি অতি দ্রুত বর্ধনশীল সেক্টর। এই ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে হাজার হাজার তরুণ ঘরে বসে আয় করছে। এবং অন্যদিকে সরকারি এবং বেসরকারি চাকরির চাহিদা ও অনেক বেড়েই চলেছে। অনেকেই এখন চাকরি করার পাশাপাশি পার্ট টাইম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করছে। যা যুবসমাজের কাছে একটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

নতুনদের জন্য পরামর্শ

ক. চাকরি ছেড়ে হঠাৎ করে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন না।
খ. আগে স্কিল শিখুন এরপর ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করুন।
গ. প্রথমে পার্টটাইম হিসেবে শুরু করুন
ঘ. ধীরে ধীরে ফুলটাইম কাজ শুরু করুন।

শেষ কথা ও মতামত

ফ্রিল্যান্সিং এবং চাকরি এর মধ্যে কোনটা ভালো? এই বিষয়ে একক কোনো উত্তর নেই। আপনার ব্যাক্তিত্ব, লক্ষ্য, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতার উপরসম্পূর্ণ নির্ভর করে যে, আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন না কি চাকরি করবেন। চাকরি স্থিতিশীলতা দিয়ে থাকে এবং ফ্রিল্যান্সিং স্বাধীনতা দিয়ে থাকে। এজন্য আমি মতামত দেই যে,আপনার অবস্থান বুঝে সঠিক পথ বেছে নেওয়ায় বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত হবে।

Spread the love

Leave a Comment