০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সরকারি নোটিশ পেলে কি করবেন?

  • Mithu Babu
  • Update Time : ০৭:৪৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৯ Time View

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সরকারি নোটিশ পেলে কি করবেন?

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নোটিশ পেলে কি করবেন?

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নোটিশ মানে হলো সরকার আগে থেকেই লিখে জানিয়ে দেয়—কোন এলাকায় কার জমি উন্নয়ন কাজের জন্য নেওয়া হবে এবং সেই বিষয়ে মালিকদের কী করতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইন, ২০১৭ এর ধারা ৩(১) মতে প্রাথমিক অধিগ্রহণ নোটিশ দিয়ে থাকে। অর্থাৎ সরকার আপনার জমি অধিগ্রহণ করতে চায়, এজন্য পূর্বেই নোটিশের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। এই নোটিশ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে দিয়ে থাকে।

জমি অধিগ্রহণের কাজ কি?

সরকার রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, বাঁধ বা অন্য জনকল্যাণ মূলক কাজ করার জন্য ব্যাক্তি মালিকানার জমি প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী সেই জমি নেওয়ার প্রক্রিয়া কে জমি অধিগ্রহণ বোঝানো হয়।
অর্থাৎ সরকারি উন্নয়ন বা বাণিজ্যিক ভবন তৈরির কাজে জমি প্রয়োজন হলে যেই জমি প্রয়োজন তার মালিক বা দখলদারকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয় এবং অধিগ্রহণ সম্পুর্ন হলে ক্ষতিপূরণ বা মূল্য দিয়ে থাকে। একটিই মূলত ভূমি অধিগ্রহণের কাজ।

নোটিশে লেখা থাকবে, নির্দিষ্ট করে কত দিনের মধ্যে আপত্তি জানাতে পারবেন। এবং সেই মোতাবেক যদি আপনার আপত্তি থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ লিখিত আপত্তি দিবেন। ভূমি অধিগ্রহণ নোটিশ পাঠিয়েছে মানে আপনার জমি এখনো নেয়া হয় নি। কেবল সরকার জমি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনি চাইলে আপত্তি জানাতে পারেন। আপত্তি জানানোর জন্য নির্ধারিত সময় পাবেন।

অন্য পোস্ট – বাটোয়ারা মামলার খরচ | কি কি কাগজপত্র লাগে

নোটিশ পাওয়ার পর কি করবেন

জমির বর্তমান অবস্থা, স্থাপনা, গাছপালা ইত্যাদির ভিডিও/ছবি রাখুন। দখলের সময় আপনি বা আপনার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। নতুন করে ভবন/পরিবর্তন করবেন না। কেবল সরকারি ফরমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন তথ্যের জন্য আপনার জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করবেন।
নোটিশ উল্লেখ করা হয়েছে সেই জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি কাগজ ব্যবস্থা করুন। যদি আপত্তি থাকে—১৫ দিনের মধ্যে লিখিত আবেদন করুন।  ক্ষতিপূরণের সময় সব প্রমাণ জমা দিবেন।

জোর করে দখল নিলে করনীয় কি?

অতি দ্রুত জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করবেন। এর প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আবেদন। এবং আপনার ভিডিও/ছবি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হবে। তবে মনে রাখবেন এই অবস্থায়ও আপনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নষ্ট হয় নাই। ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ছাড়া দখল একটি আইনি ত্রুটি। এইসব বিষয় নিয়ে রাগারাগি করবেন না বা জোরাজুরি করবেন না। এবং খালি কাগজে সই করবেন না। কারোর মৌখিক কথায় বিশ্বাস করবেন না।

আপত্তি আবেদন অনুরূপ নমুনা

আমি আইনজীবী সহকারী, জজ কোর্ট নওগাঁ। আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নিচের আবেদন টি হুবহু লিখে আবেদনে নিজের নাম–ঠিকানা–দাগ নম্বর ঠিক করে লিখে ব্যবহার করতে পারবেন।

আপত্তি টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায়, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার নিকট নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিবেন এবং এক কপি রিসিভ কপি নিবেন।

আপত্তির জন্য আবেদন ড্রাফট

বরাবর
ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নওগাঁ।

বিষয়: ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইন, ২০১৭ এর ধারা ৩(১) অনুযায়ী জারিকৃত নোটিশের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের প্রার্থনা।

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আপনার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নোটিশ নং–০২, মামলা নং–০২/২০২৫-২৬, তারিখ ০৭/০২/২০২৬ অনুযায়ী……..  সদর উপজেলার …….. মৌজার আরএস দাগ নং …….., খতিয়ান নং …….., মোট …….. একর “……..” শ্রেণির জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

উক্ত জমির আমি একজন বৈধ মালিক/উত্তরাধিকারী। প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ বিষয়ে আমার আপত্তি/দাবি রয়েছে— উক্ত জমি আমার বসতভিটা হওয়ায় এটি অধিগ্রহণ করলে আমার ও আমার পরিবারের গুরুতর ক্ষতি হইবে। জমিতে স্থায়ী স্থাপনা/গাছপালা/উন্নয়ন কাজ রয়েছে, যার সঠিক মূল্যায়ন না হলে ন্যায় সঙ্গত ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব নয়। বিকল্প জমি বা যথাযথ পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা খুবই প্রয়োজন। (…….এখানে আপনার আরও অধিক কিছু আপত্তি থাকলে উল্লেখ করবেন……)

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে,  আবেদন মঞ্জুর পূর্বক আমাকে ন্যায় সঙ্গত ক্ষতিপূরণ ও আইনসম্মত সুবিধা প্রদান করা হোক।

বিনীত নিবেদক
নাম: …………………
পিতা/স্বামী: ……………
ঠিকানা: ………………
মোবাইল: ………………
স্বাক্ষর:
তারিখ:

আমার মতামত

আপনি চিন্তিত হবেন না বরং আপনি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিবেন। আপনার এই সব সম্পর্কে ধারণা বা অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ করবেন। এই প্রতিবেদন টি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করে আমাদের পাশেই থাকুন।

Spread the love

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

mithu Babu

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সরকারি নোটিশ পেলে কি করবেন?

Update Time : ০৭:৪৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নোটিশ পেলে কি করবেন?

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নোটিশ মানে হলো সরকার আগে থেকেই লিখে জানিয়ে দেয়—কোন এলাকায় কার জমি উন্নয়ন কাজের জন্য নেওয়া হবে এবং সেই বিষয়ে মালিকদের কী করতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইন, ২০১৭ এর ধারা ৩(১) মতে প্রাথমিক অধিগ্রহণ নোটিশ দিয়ে থাকে। অর্থাৎ সরকার আপনার জমি অধিগ্রহণ করতে চায়, এজন্য পূর্বেই নোটিশের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। এই নোটিশ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে দিয়ে থাকে।

জমি অধিগ্রহণের কাজ কি?

সরকার রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, বাঁধ বা অন্য জনকল্যাণ মূলক কাজ করার জন্য ব্যাক্তি মালিকানার জমি প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী সেই জমি নেওয়ার প্রক্রিয়া কে জমি অধিগ্রহণ বোঝানো হয়।
অর্থাৎ সরকারি উন্নয়ন বা বাণিজ্যিক ভবন তৈরির কাজে জমি প্রয়োজন হলে যেই জমি প্রয়োজন তার মালিক বা দখলদারকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয় এবং অধিগ্রহণ সম্পুর্ন হলে ক্ষতিপূরণ বা মূল্য দিয়ে থাকে। একটিই মূলত ভূমি অধিগ্রহণের কাজ।

নোটিশে লেখা থাকবে, নির্দিষ্ট করে কত দিনের মধ্যে আপত্তি জানাতে পারবেন। এবং সেই মোতাবেক যদি আপনার আপত্তি থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ লিখিত আপত্তি দিবেন। ভূমি অধিগ্রহণ নোটিশ পাঠিয়েছে মানে আপনার জমি এখনো নেয়া হয় নি। কেবল সরকার জমি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনি চাইলে আপত্তি জানাতে পারেন। আপত্তি জানানোর জন্য নির্ধারিত সময় পাবেন।

অন্য পোস্ট – বাটোয়ারা মামলার খরচ | কি কি কাগজপত্র লাগে

নোটিশ পাওয়ার পর কি করবেন

জমির বর্তমান অবস্থা, স্থাপনা, গাছপালা ইত্যাদির ভিডিও/ছবি রাখুন। দখলের সময় আপনি বা আপনার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। নতুন করে ভবন/পরিবর্তন করবেন না। কেবল সরকারি ফরমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন তথ্যের জন্য আপনার জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করবেন।
নোটিশ উল্লেখ করা হয়েছে সেই জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি কাগজ ব্যবস্থা করুন। যদি আপত্তি থাকে—১৫ দিনের মধ্যে লিখিত আবেদন করুন।  ক্ষতিপূরণের সময় সব প্রমাণ জমা দিবেন।

জোর করে দখল নিলে করনীয় কি?

অতি দ্রুত জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করবেন। এর প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আবেদন। এবং আপনার ভিডিও/ছবি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হবে। তবে মনে রাখবেন এই অবস্থায়ও আপনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নষ্ট হয় নাই। ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ছাড়া দখল একটি আইনি ত্রুটি। এইসব বিষয় নিয়ে রাগারাগি করবেন না বা জোরাজুরি করবেন না। এবং খালি কাগজে সই করবেন না। কারোর মৌখিক কথায় বিশ্বাস করবেন না।

আপত্তি আবেদন অনুরূপ নমুনা

আমি আইনজীবী সহকারী, জজ কোর্ট নওগাঁ। আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নিচের আবেদন টি হুবহু লিখে আবেদনে নিজের নাম–ঠিকানা–দাগ নম্বর ঠিক করে লিখে ব্যবহার করতে পারবেন।

আপত্তি টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায়, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার নিকট নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিবেন এবং এক কপি রিসিভ কপি নিবেন।

আপত্তির জন্য আবেদন ড্রাফট

বরাবর
ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নওগাঁ।

বিষয়: ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইন, ২০১৭ এর ধারা ৩(১) অনুযায়ী জারিকৃত নোটিশের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের প্রার্থনা।

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আপনার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নোটিশ নং–০২, মামলা নং–০২/২০২৫-২৬, তারিখ ০৭/০২/২০২৬ অনুযায়ী……..  সদর উপজেলার …….. মৌজার আরএস দাগ নং …….., খতিয়ান নং …….., মোট …….. একর “……..” শ্রেণির জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

উক্ত জমির আমি একজন বৈধ মালিক/উত্তরাধিকারী। প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ বিষয়ে আমার আপত্তি/দাবি রয়েছে— উক্ত জমি আমার বসতভিটা হওয়ায় এটি অধিগ্রহণ করলে আমার ও আমার পরিবারের গুরুতর ক্ষতি হইবে। জমিতে স্থায়ী স্থাপনা/গাছপালা/উন্নয়ন কাজ রয়েছে, যার সঠিক মূল্যায়ন না হলে ন্যায় সঙ্গত ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব নয়। বিকল্প জমি বা যথাযথ পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা খুবই প্রয়োজন। (…….এখানে আপনার আরও অধিক কিছু আপত্তি থাকলে উল্লেখ করবেন……)

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে,  আবেদন মঞ্জুর পূর্বক আমাকে ন্যায় সঙ্গত ক্ষতিপূরণ ও আইনসম্মত সুবিধা প্রদান করা হোক।

বিনীত নিবেদক
নাম: …………………
পিতা/স্বামী: ……………
ঠিকানা: ………………
মোবাইল: ………………
স্বাক্ষর:
তারিখ:

আমার মতামত

আপনি চিন্তিত হবেন না বরং আপনি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিবেন। আপনার এই সব সম্পর্কে ধারণা বা অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ করবেন। এই প্রতিবেদন টি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করে আমাদের পাশেই থাকুন।

Spread the love