বাড়িতে সহিংসতা বা স্কুলে হয়রানি, আইনের সাহায্য কিভাবে নেবেন?
সহিংসতা বা হয়রানি কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়, আর এটি মুখ বুজে সহ্য করাও সমাধানের পথ নয়। নওগাঁ জজ কোর্টে আইনজীবী সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে আমি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে আইনি লড়াই করতে দেখি। আমার সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আজ সহজ কিছু পরামর্শ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
বাড়িতে সহিংসতা (পারিবারিক সুরক্ষা)
পরিবারে যদি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন ঘটে, তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের দেশে ‘পারিবারিক সুরক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০১০’ আপনার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী।
দ্রুত পদক্ষেপঃ যদি অধিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে থাকেন তাহলে দেরি না করে নিকটস্থ থানায় জানান। তবে মনে রাখবেন পারিবারিক কোনো বিষয়ে জিডি করবেন না! এখন প্রশ্ন! তাহলে কি করবেন? পারিবারিক কোনো ইস্যু নিয়ে থানায় আবেদন করতে পারেন। এছাড়া সরাসরি আদালতে গিয়ে মামলা করতে পারবেন।
মেডিকেল রিপোর্টঃ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিন এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট বা ছাড়পত্র টি যত্ন করে রাখুন। এটি আদালতে প্রমাণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে।
আমার পরামর্শঃ আপনার ঘটনার সব সময় প্রমাণ রাখুন বা রাখার চেষ্টা করুন। যেমন- ছবি/অডিও রেকর্ড/ভিডিও রেকর্ড/মেসেজ ইত্যাদি প্রমাণ রাখার চেষ্টা করবেন। নওগাঁ কোর্টে এমন অনেক মামলা আমি দেখেছি যেখানে ছোট ছোট তথ্য প্রমাণ গুলোও ভুক্তভোগীর কাজে এসেছে এবং জয়ী করতে সাহায্য করেছে।
স্কুলে হয়রানি বা বুলিং
স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়রানির কারণে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এরজন্য এর প্রতিকার সম্পর্কে জানা দরকার –
প্রতিষ্ঠানকে জানানো দরকারঃ প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা ম্যানেজিং কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিন। এরপর দেখুন তারা কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।
আইনি সাহায্যঃ যদি বিষয় টি গুরুতর হয়। যেমন- যৌন হয়রানি বা অনলাইনে/ডিজিটাল মাধ্যমে হেনস্তা করে, তাহলে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইনে’ মামলা করা সম্ভব হবে।
অভিভাবকদের দায়িত্বঃ আপনার সন্তানের আচরণে পরিবর্তন দেখলে তাকে সময় দিন।আপনার সন্তানের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। ভয় কাটিয়ে তাকে কথা বলতে সাহায্য করুন।
অন্য পোস্ট – ডিভোর্সের পর সন্তান কার কাছে থাকবে – আইনের ব্যাখ্যা
আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু জরুরি পরামর্শঃ
নওগাঁ জজ কোর্টে আইনজীবী সহকারী কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছি সেটি হলো –
অনেকেই মনে করেন মামলা করলে মান-সম্মান যাবে বা সমাজে চলতে পারবো না বা সমাজে লোকে কি বলবে! জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে। আসলে আপনি অন্যায় সহ্য করলে অপরাধীর সাহস আরও বেড়ে যাবে। এজন্য আইনের আশ্রয় নেয়া আপনার নাগরিক অধিকার। তাই আপনি ভয় না পেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিন। এটি আপনার অধিকার। মামলা করার সময় আইনজীবী বা তার সহকারীর কাছে কোনো কিছু গোপন করবেন না। ঘটনার সঠিক বিবরণ, তথ্য প্রমাণ, যতটুকু আছে তাই উপস্থাপন করুন বা মামলার আরজিতে বর্ণনায় লিখুতে সাহায্য করুন।
★আপনার জন্য জরুরি এই হটলাইন নম্বরগুলো মনে রাখুন –
📞নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। কল করুন ১০৯ নম্বরে
📞 যে কোনো জরুরি পুলিশের সহায়তার জন্য কল করুন ৯৯৯ নম্বরে
📞 সরকারি তথ্য ও সেবার জন্য কল করুন ৩৩৩ নম্বরে
শেষ কথা
আপনি নওগাঁ বা দেশের যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন,প্রশাসন কে জানাতে হবে, তবেই আইন প্রশাসন কে পাশে পাবেন। আইনী কোনো কাজে ভয় না করে পুলিশ কে জানান অথবা আপনার পরিচিত অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন। এবং আপনার আরও অধিক প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও এই প্রতিবেদন টি শেয়ার করে সকল কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিন।

Mithu Babu 















