বাংলাদেশে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করার শাস্তি

বাংলাদেশে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করার শাস্তিবাংলাদেশে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করার শাস্তি

আজকের বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশের আইনে মিথ্যা মামলা করার শাস্তি ধারা সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা এবং মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করা বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিশেষ আইনে এই বিষয়ে স্পষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে।

সরকারি কর্মচারীকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার শাস্তি 

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮২ ধারা

যদি কোনো ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয়। যা ফলে তিনি আইনী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি হয়। তবে সেই ব্যাক্তি দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮২ ধারা মতে অপরাধ করেছে। যদি কোনো ব্যাক্তি মিথ্যা জিডি করে তবে সেই ব্যাক্তি এই ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮২ ধারার শাস্তি

এই আইনে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে।

কাউকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করার শাস্তি

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২১১ ধারা

যদি কোনো ব্যাক্তি জেনেশুনে নিরপরাধ কোনো ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ করে, তবে সেই ব্যাক্তি এই ধারায় অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২১১ ধারার শাস্তি

এই ধারায় সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হবে। যদি অভিযোগ টি ৭ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড, বা যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড, অপরাধের হয়, তাহলে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

অন্য পোস্ট – Adsterra Ad Network থেকে অর্থ উপার্জনের সম্পূর্ণ নিয়ম 

আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৯১ ও ১৯৩ ধারা

যদি কোনো ব্যাক্তি আদালতে বা আইনগত শপথে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়,তবে সেই ব্যাক্তি উক্ত ধারায় অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৯৩ ধারার শাস্তি

এই ধারার সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

মিথ্যা প্রমাণ বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৯৫ ধারা

যদি কোনো ব্যাক্তি মামলায় কোনো ব্যাক্তি কে দোষী প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রমাণ বা সাজানো মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে বা উপস্থাপন করে, তবে সে ব্যাক্তি উক্ত ধারায় অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৯৫ ধারার শাস্তি

এই ধারায় সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

আদালতে মিথ্যা দাবি বা মিথ্যা মামলা করার শাস্তি 

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২০৯ ধারা

যদি কোনো ব্যাক্তি মিথ্যা জানা স্বত্বেও দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে মিথ্যা দাবি উপস্থাপন করে বা মামলা করে, তবে সেই ব্যাক্তি উক্ত ধারায় অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২০৯ ধারার শাস্তি

এই ধারায় সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড,অথবা উভয় দণ্ড।

শপথপত্র বা ঘোষণাপত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার শাস্তি

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৯৯ ধারা

যদি কোনো ব্যাক্তি কোনো শপথ বা ঘোষণাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজায়, যদি সেই ঘোষণাকে আইন অনুযায়ী সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে সেই ব্যাক্তি উক্ত ধারায় অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৯৯ ধারার শাস্তি

উক্ত ধারায় অপরাধ করলে দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারা অনুযায়ী ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হবে।

মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় ক্ষতিপূরণ

ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) – ধারা ২৫০

মামলা সাক্ষ্য শেষে বা নিস্পত্তি হলে যদি আদালত মনে করেন যে, অভিযোগ টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং হয়রানি মূলক। তাহলে আদালত বাদীকে অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দিতে পারেন এবং জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড ও দিতে পারেন।

অন্য পোস্ট – জিডি/সাধারণ ডায়েরি করার নিয়ম

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মিথ্যা মামলা করার শাস্তি 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৭ ধারা

যদি কোনো ব্যাক্তি অন্য কোনো ব্যাক্তির  ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোনো ধারায় মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য, আইনসংগত কারণ নাই জানা স্বত্বেও  মামলা বা অভিযোগ করে বা করাত তাহলে মামলার বাদী বা অভিযোগকারীকে এবং যে অভিযোগ করাইয়াছে উক্ত ব্যাক্তি সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ড হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত মিথ্যা মামলা করার শাস্তি 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অপরাধে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে— দণ্ডবিধির ২১১/১৮২ ধারা প্রযোজ্য হবে।এছাড়া আদালত জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। এবং মানহানির জন্য আদালত আলাদা মামলা করার আদেশ দিতে পারেন। মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হলে মূল মামলা বাতিল হবে এবংআদালত বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার আদেশ দিবেন। এছাড়াও আদালত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা করবেন।

শেষ কথা ও মতামত

যদি আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয় তাহলে ভয় না পেয়ে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিবেন। মিথ্যা মামলা হলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে, মামলা টি মিথ্যা। এবং মামলা টি মিথ্যা এটা প্রমান হওয়ার পরই মামলার বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার জন্য মামলা করতে পারবেন।

Spread the love

Leave a Comment